অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ার পরও ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ২ হাজার ২৬৭ কোটি ডলার বা ২২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা অর্জন করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল কোম্পানি আরামকো। জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা চললেও কোম্পানিটি শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর আরব নিউজ।
চলতি ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষের প্রথম ছয় মাসে আরামকোর মোট নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৬৮ কোটি ডলারে। এ সময় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ও নগদ অর্থের প্রবাহ কোম্পানিটির আয়ে সহায়তা করেছে।
কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২ হাজার ১০০ কোটি ডলারের মূল লভ্যাংশ এবং ২১ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পারফরম্যান্সভিত্তিক লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। এ লভ্যাংশ তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পরিশোধ করা হবে।
আরামকোর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের বলেন, ‘২০২৫ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) আরামকোর দৃঢ়তা আবারো প্রমাণ হয়েছে। আমরা মুনাফায়, শেয়ারহোল্ডারদের নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানে এবং পুঁজির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পেরেছি। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও আমরা দেশীয় ও বৈশ্বিক গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি সরবরাহ করেছি।’
তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরামকোর মুনাফা কিছুটা কমেছে। প্রথম প্রান্তিকে নিট মুনাফা ছিল ২৬০ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময় ছিল ২৯০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এ পতনের প্রধান কারণ জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়া। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির গড় বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেলে ৬৬ দশমিক ৭ ডলারে, আগের প্রান্তিকে যা ছিল ৭৬ দশমিক ৩ ডলার এবং গত বছরের একই সময় ছিল ৮৫ দশমিক ৭ ডলার।
এ সময়ে কোম্পানির সমন্বিত নিট আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৫০ কোটি ডলারে। পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদপ্রবাহ এসেছে ২ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ফ্রি ক্যাশ ফ্লো ছিল ১ হাজার ৫২০ কোটি ডলার।
আরামকো জানিয়েছে, তারা বেরি, মারজান ও জুলুফসহ বড় জ্বালানি তেল প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি জাফুরা গ্যাস প্রকল্পও পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে। এছাড়া দাম্মাম উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপ এরই মধ্যে চালু হয়েছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রথমার্ধের তুলনায় দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল বাড়বে।